ইসরায়েলের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি হিজবুল্লাহ’র

নিউজ ডেস্ক:: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য বেকা উপত্যকায় ক্ষেপণাস্ত্র জড়ো করছে তারা। যেকোনও সময় দুইপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বলা হচ্ছে, ২০০৬ সালের পর দুইপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হতে পারে এটি। সম্প্রতি দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লেবাননের আমেরিকান সাময়িকী ফরেইন পলিসির এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, একাধিক হিজবুল্লাহ সদস্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছে ফরেইন পলিসি। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী হিলাল।

তিনি জানান, ১৩ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইসরায়েলের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র জমা করা হচ্ছে। ওই অঞ্চল পুরোটা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। আমাদের নির্দেশের অপেক্ষা না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে হামলা শুরু হতে পারে।

সম্প্রতি লেবাননে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক, অলিখিত সমঝোতা লঙ্ঘন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান-সমর্থিত দলগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসী অভিযান চালানো শুরু করেছে তার সরকার। ২৪ আগস্ট লেবাননে একটি ইসরায়েলি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়।

একইদিন ইরাকে এক ইরান-সমর্থিত বাহিনীর কমান্ডারকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েল। এর পরদিন সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে দুই হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু সরকারের অভিযোগ, ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছিল ইরান-সমর্থিত বাহিনী।

এদিকে, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বেকা উপত্যকায় ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা স্থাপনের অভিযোগ এনেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এই আগ্রাসী আচরণকে সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননে দেশটির কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ট্রান্সন্যাশনাল থ্রেট প্রজেক্টস’র পরিচালক সেথ জোনস জানান, দেশগুলোয় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ধরন পাল্টেছে ইসরায়েলের।

তবে ইসরায়েলের হামলার জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। রবিবার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক ট্যাংক-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় একাধিক ইসরায়েলি সেনা নিহতের দাবি করেছে দলটি। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

দুইপক্ষের এমন আগ্রাসী আচরণের পর পরই যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষজ্ঞদের মনে। ফরেইন পলিসি বলছে, আপাতদৃষ্টিতে হামলা স্থগিতের চিত্র দেখা গেলেও ভবিষ্যতে তা বড় আকারে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সংঘাত থামাতে কাজ করা বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিরিয়া, ইরাক ও লেবানন শাখার পরিচালক হেইকো উয়িনমেন বলেন, এমতাবস্থায় যেকোনো ভুল পদক্ষেপ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

তিনি বলেন, এটা মোরগ লড়াই চলছে। আপনি চোখ বন্ধ করলেন তো আপনি দুর্বল হয়ে  পড়বেন। দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, কিন্তু আপনি যদি ঘন ঘন চোখের পাতা বন্ধ করেন তাহলে আপনি সত্যিকার অর্থেই আপনি কিছু হারিয়ে ফেলবেন। আপনি যদি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চোখ খোলা রাখতে পারেন তাহলে সংঘাত এড়ানো আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না। হয়তো আপনি সংঘাত চান না, কিন্তু কোনও একপর্যায়ে সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক