কোরবানি ঈদের জন্য তৈরি হচ্ছে ৪০ মণের যুবরাজ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে কোরবানি ঈদের জন্য তৈরি হচ্ছে ৪০ মণের এক যুবরাজ।

এই যুবরাজকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে যুবরাজের বাড়িতে। তার সঙ্গে সেলফি উঠানোরও হিড়িক চলছে। অনেকে আবার যুবরাজের সঙ্গে তোলা তার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

দূর্গাপুরের এই যুবরাজ কোনো রাজপুত্র নন, শাহ আলম মিয়ার একটি ফ্রিজিয়ান ষাঁড়। শখ করে যার নাম রাখা হয়েছে যুবরাজ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটা একটা হাতি। ইতোমধ্যে পাইকাররা যুবরাজের দাম হেঁকেছেন ১৮ লাখ টাকা। আর শাহ আলম ২৫ লাখ দাম চাচ্ছেন, তবে কিছু কম হলেও বিক্রি করবেন তিনি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে শাহ আলম মিয়া গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম। প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় করে বাড়ি এবং বাড়ির সাথে এই ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। তিন বছর হলো এই খামারে গরু লালন-পালন করেন তিনি।

শাহ আলম বলেন, বর্তমানে তার খামারে সাতটি গরু আছে। সবগুলো গরুর আলাদা আলাদা নাম আছে। তিনি সবাইকে নাম ধরেই ডাকেন। আসন্ন ঈদুল আযহায় তিনি যে তিনটি গরু বিক্রি করবেন সেগুলোর নাম যুবরাজ, রবি ও সাহেব। বাকি চারটা আগামী বছর বিক্রি করবেন।

তিনি বলেন, গরুগুলো তার খুব আদরের। তাদের সবকিছু নিজ হাতেই করেন। খাবার দেয়া, ময়লা পরিষ্কার, গোসল দেয়া সবই নিজে করেন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য তিনজন কর্মচারী আছেন। গরুগুলো অনেক বড় হওয়ায় সব কাজ করতে পারেন না। তাই অন্যদের সহযোগিতা নিতে হয়। তাদের চিকিৎসা, তাপমাত্রা ঠিক রাখাসহ সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হয়।

তিনি আরো বলেন, তিন বছর আগে তিনি এই খামার করেছেন। যুবরাজকে তিনি খামার শুরুর সময় মাত্র ৬ মাস বয়সে নিয়েছিলেন। এখন তার বয়স ৩ বছর ৬ মাস। এই সময়ে পরিমিত খাবার আর যত্ন এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন।

যুবরাজকে কিনতে করতে ইতোমধ্যে পাইকাররা আসছেন। তারা ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্য দিয়েছেন। তিনি আরেকটু অপেক্ষা করছেন। প্রয়োজনে হাটে উঠাবেন এবং ২৫ লাখ টাকা দাম চাইবেন। এ ক্ষেত্রে কিছু কম হলেও বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডেইরি ফার্ম মালিক বলেন, যুবরাজের পেছনে এখন পর্যন্ত তার ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিদিন যুবরাজের খাবারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, শাহ আলম মিয়া গরুর সাথে কথা বলে। তিনি নাম ধরে ডাক দিলেই গরু বুঝতে পারে। মালিক যে নির্দেশ দেন সেটাই সে পালন করে।

তিনি বলেন, এই যুবরাজ তাদের গ্রামটি অনেক এলাকার মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন যুবরাজকে দেখতে।

ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা দর্শনার্থী শাহিনুর রহমান টিটো জানান, তাদের এলাকার অনেকে যুবরাজকে দেখে গিয়ে গল্প করছিলেন। এই গল্প শুনে তিনিও এসেছেন। গরুটি দেখে গরু মনে হয়নি, মনে হয়েছে এটি একটি হাতি। তিনি তার জীবনে এমন গরু কখনো দেখেনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, তারা গরুটির ওজন আনুমানিক ৩৫ মন বলে ধারণা করছেন। ঈদ আসতে এখনো বেশ কিছুদিন বাকি আছে। এরই মধ্যে আরো কিছু ওজন বাড়বে বলে মনে করছেন। অবশ্য গরুর ওজন আরো বেশি হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক