কোয়ার্টার থেকে বার্সাকে সেমিতে নিলেন মেসি

৩৩

নিউজদেশবাংলা ডেক্স:: কোয়ার্টারের দ্বিতীয় লেগে নামার আগে বার্সেলোনার ভয় কাজ করছিল। আগের মৌসুমে এএস রোমার বিপক্ষে প্রথম লেগে জয়ের পরও দ্বিতীয় লেগে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল মেসিরা। অবশেষে সেই ভয় দূর করে তিন মৌসুম পর সেমিতে জায়গা করে নিল কাতালানরা। সেই সঙ্গে মেসি কোয়ার্টারে গোল না করার অপবাদ ঘুঁচিয়েছেন জোড়া গোল করে। আরেকটি গোল করেন অফফর্মে থাকা ফিলিপ কুতিনহো।

মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টারের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যূয়ে আতিথেয়তা নিতে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে মেসির দুই গোল ও দ্বিতীয়ার্ধে কুতিনহোর গোলে রেড ডেভিলদের ৩-০ গোলে পরাজিত করে শেষ তিন মৌসুম কোয়ার্টার না পেরুনো বার্সা। এতে করে দুই লেগ মিলে ৪-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনা বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাসিং সৌন্দর্যময় ফুটবল বনাম কিছুটা শারীরিক শক্তি নির্ভর ডাইরেক্ট ফুটবল। বল ধরলেই দু’-তিনজন মিলে ঘিরে ধরে ছন্দ নষ্ট করে দেওয়া। সঙ্গে কড়া ট্যাকল সামলানোর ঝুঁকি তো আছেই। প্রথম পর্বের ম্যাচে মেসির রক্তাক্তের দৃশ্যটা তো এখনো তাজা। কিন্তু মেসিকে আটকানোর জন্য ম্যান টু ম্যান টাইট মার্কিং বা জোনাল মার্কিং কোনোটাই যথেষ্ট নয়। আর যদি মেসি থাকেন তছনছে মুডে, তাহলে তো কথায় নেই।

ঘরের মাঠে লিড পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাকে। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে অসাধারণ দক্ষতায় দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মেসি। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক অ্যাশনে ইয়ংয়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে একজনকে কাটিয়ে খানিক জায়গা বানিয়ে নিজের চিরচেনা বাম পায়ের শটের বল জালে জড়ান মেসি।

মিনিট চারেক পর আবার মেসি জাদু। এবার ডান পায়ের। তবে এতে গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়ার দায়টাই বেশি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ের দুর্বল শট নেন মেসি, যা ছিল গোলরক্ষক বরাবর। কিন্তু রাখতে পারেননি গিয়া। তার হাতের নিচ দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। চলতি আসরের ১০ম এবং সবমিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির এটি ১১০তম গোল।

বিরতির ঠিক আগে স্কোরলাইন হতে পারতো ৩-০। মাঝমাঠে বল পেয়ে দারুণ ড্রিবলিং দুইজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাম পাশে জর্দি আলবার উদ্দেশ্যে পাস দেন মেসি। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পাশে থাকা সার্জিও রবার্তোর উদ্দেশ্যে ক্রস দেন আলবা। দারুণ এক শট নেন রবার্তো। কিন্তু জালে ঢোকার মুহূর্তে সেটি ডি গিয়ার মুখে লাগলে গোলবঞ্চিত হয় বার্সেলোনা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি রেড ডেভিলদের। এবার নিজের সুনিপুণ দক্ষতার ছাপ রাখেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কৌতিনহো। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিজের চিরচেনা ডান পায়ে বাঁকানো শটে ডি গিয়াকে ফাঁকি দেন তিনি। এতেই মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ফলাফল।

তবু ম্যাচের শেষদিকে আসে উত্তেজনা। ৮৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় অ্যালেক্সিস সানচেজের হেডে ব্যবধান কমাতে পারতো ইউনাইটেড। কিন্তু বল জালে জড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে লাফিয়ে পড়ে সেটি প্রতিহত করেন বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগান। এর এক মিনিট পরই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জেগেছিল মেসির। তবে আর জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন ডি গিয়া।

৩-০ গোলের সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। দিনের অন্য ম্যাচে আয়াক্সের কাছে ১-২ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাস।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক