খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিসিবি পরিচালক লোকমানের যে ছবি ভাইরাল

১১

স্টাফ রিপোর্টার:: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ক্যাসিনো থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

বর্তমানে তিনি মাদক আইনে দায়ের করা একটি মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন।

র‌্যাবের হাতে আটক পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসেন লোকমান। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে তার নানা কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি।

ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো থেকে অঢেল টাকা কামিয়েছেন এই লোকমান। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ব্যাংকে তিনি ৪১ কোটি টাকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। মোহামেডান থেকে আয় করা টাকার ভাগ দিতেন ঢাকার যুবলীগ নেতা সম্রাট ও সাঈদকে।

করিতকর্মঅ লোকমানই ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার রুমে টাঙানো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে সেই ছবিটি ভাঙচুর করেন তিনি।

অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিসিবির পরিচালক হয়েছেন লোকমান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দুহাতে কামিয়েছেন। বছর কয়েকের ব্যবধানে রীতিমত ফুলে ফেঁপে কলা গাছ হয়েছেন তিনি।

এর মাঝেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে লোকমানের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি সমাবেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মাথার ওপর ছাতা ধরে আছেন লোকমান। ওই ছবিতে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকেও দেখা যাচ্ছে।

এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় শুরু হয়। প্রশ্ন উঠে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা কি করে আওয়ামী লীগের সময়ে এত সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন।

লোকমান এক সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তাও ছিলেন বেশ কিছুদিন।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ২০০৮ সালে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক তিনি।

১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালীন তার নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এই লোকমান এখন বিসিবির খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি বনে গেছেন। বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগেরও প্রধান তিনি। এছাড়া লোকমান বিসিবির পরিকল্পনাধীন ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগেই লোকমান গত দুই বছরে বিপুল অংকের টাকার মালিক হয়েছেন।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে কোটি কোটি টাকা আয়ের পর তা ভাগভাটোয়ারার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে লোকমানের বিরুদ্ধে।

লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ২৬ বছর ধরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুটি পদের অপব্যবহার করেই তিনি ক্লাবটি ক্যাসিনো চালানোর জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন। প্রায় ২ বছর আগে ওই ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিএনপির শাসন আমলেও শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, টেন্ডার বাণিজ্যেও জড়িয়ে পড়েন লোকমান। মতিঝিলের সিটি সেন্টার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টেন্ডার কাজে নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন লোকমান ভূঁইয়া।

লোকমানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলরশিপ ও পদ বিক্রি করতেন। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির কাউন্সিলরশিপ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন লোকমান ভূঁইয়া। সারাজীবন ফুটবল সংগঠক হিসেবে খ্যাত লোকমান ভূঁইয়া ২০১৩ সালে ক্রিকেট বোর্ডে ঢুকে পড়েন। বিসিবির কর্মকর্তা হয়েই একের পর এক ব্যবসা-বাণিজ্য বাগিয়ে নেন লোকমান ভূঁইয়া।

ক্লাবে ক্যাসিনো চালু করে বিদেশে কোটি কোটি টাকার পাহাড় জমিয়েছেন লোকমান ভূঁইয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের আগে, লাল-নীল আলোয় ঝলমল করত পুরো ক্লাব অঙ্গন। নানান মানুষের আনাগোনা এবং বিলাসবহুল গাড়ির ভিড়ে রাতদিন মুখরিত থাকত ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকে তিনি গত মাসে ২৬ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন। প্রতি ৪ মাস পরপর তিনি সেখানে ১২ হাজার ডলার করে পাঠান। অস্ট্রেলিয়াতে তার ছেলে পড়ালেখা করে। সেখানে তার নামেও ব্যাংক হিসাব আছে। সেখানেও লোকমানের মোটা অঙ্কের অর্থ থাকতে পারে। অবৈধ আয়ের মোটা অঙ্কের টাকা অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ও এএনজেড ব্যাংকে রাখা আছে।

অবৈধভাবে টাকা উপার্জনের জন্যই তিনি মোহামেডান ক্লাবের কয়েকটি রুম ক্যাসিনোর জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই তার বাড়িটি নজরদারিতে রাখা হয়।

বুধবার দিবাগত রাতে লোকমানকে তাঁর মণিপুরী পাড়ার বাসা থেকে আটক করে র‍্যাব-২। পরদিন তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক