টাঙ্গাইলে তামাক চাষে ঝুঁকছে নারী ও শিশুরা

৭৭

নিউজদেশবাংলা ডেক্স:: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তামাক শ্রমিক হিসেবে দিন মজুরির কাজ করি। দিনের মাঝখানে দুইবার খাওয়ার সময় পাই। আবার সংসারের কাজকর্মও করতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার। মাথায় চিন্তা থাকে তিন বেলা দু’মুঠো পেট ভরে ডাল-ভাত খেতে পারব কি না। তবুও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেন না আমরা নারীরা গ্রামে-গঞ্জে কাজ করতে পারি। না হলে পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামতে হতো। স্বামী অসুস্থ। তার চিকিৎসার টাকাও যোগার করতে হয় কামলা দিয়ে।

উৎকন্ঠভাবে কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চরঞ্চল রায়ের বাসালিয়া গ্রামের তামাক শ্রমিক মোছা. রোজিনা বেগম। বয়স আনুমানিক ৪৮।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদী চরঞ্চলে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের রায়ের পাড়া বাসালিয়া, গোবিন্দপুর, রুলীপাড়া, রামপুর, বামনহাটা, জংলীপুরসহ চরের বিস্তীর্ণ আরো বহুগ্রামে শত শত হেক্টর জমিতে বিষাক্ত তামাক চাষ করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের তামাকজাত দ্রব্য বিভিন্ন কোম্পানি বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে তামাক চাষের প্রজেক্ট তৈরি করেছে।

তামাক শ্রমিক আরেক নারী বলেন, তামাক চাষে বেশির ভাগই নারীরা কাজ করে থাকে। কাজের পারিশ্রমিক খুবই কম। বর্তমানে একজন পুরুষ শ্রমিকের মূল্য ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। আর আমরা পাচ্ছি মাত্র ১৫০ টাকা। এতে করে আমরা নারী শ্রমিকরা নায্য মজুরি পাচ্ছি না।

সরজমিনে আরো দেখা যায়, স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়েরাও তামাক শ্রমিকের কাজ করছে। তারা কেউ তামাকের গাছ থেকে পাতা ভাঙছে, কেউ পাতা শুকাচ্ছে, আবার কেউ শুকানো তামাকগুলো বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী কাউসার হোসেন বলেন, সকালে একটু সময় পেলে সকাল ৯টা পর্যন্ত তামাকের কাজ করি। তারপর স্কুলে যাই। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বিকেলে আবার তামাকের কাজ করি। কিন্তু শুক্রবার হলে সারাদিন কাজ করি। মজুরি হিসেবে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে দেয় তামাক ক্ষেতের মালিকরা।

৭ম শ্রেণির ছাত্রী বিথী বলেন, সপ্তাহে শুক্রবার স্কুল বন্ধ। তাই তামাকের কাজ করছি। ৫ থেকে ৭ ফুট আইলচা বাঁধলে দেয় ৩ থেকে ৫ টাকা। সারাদিন কাজ করলে ৮০ টাকা ১২০ টাকা দেয় মালিকরা। তামাকের কাজ যেদিন করি, সেদিন আর ভাত খেতে পারি না। দু’হাত তেঁতো হয়ে যায়, ঠা-া-জ্বর, শুকনো কাশি লেগে যায়। তবুও লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য কাজ করি।

নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক এক তামাক চাষির এজেন্টের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভুট্টা চাষের তুলনায় তামাক চাষে লাভব বেশি। বেশি লাভের আশায় তামাক চাষ করছেন তারা।

যমুনার চরঞ্চলে দেখা যায়, তামাক চাষে নারী শ্রমিকের বেশি উপস্থিতি। সংসার চালানোর জন্যই তামাকের কাজ করছে নারীরা।

কৃষি অফিসার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেকটা তামাক চাষ কমে গেছে। আগামীতে তামাক চাষ আরো কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুট্টা, চিনা বাদামসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষাবাদও বাড়ছে চরঞ্চলে। কৃষি অফিস থেকে চরাঞ্চলসহ উপজেলার প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের বিভিন্ন মৌসুমে আর্থিক সহযোগিতা, কীটনাশক, বীজ বিনামূল্যে প্রদান করে আসছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে নিয়মিত কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও অসুবিধা সমাধানের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। ব্লকে ব্লকে করা হচ্ছে আলোচনা সভা।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক