দেখছি নানান বিনোদন !

৫৪
Image result for leader cartoon
আলমগীর হোসাইনঃ আমাদের চারপাশের কিংবদন্তীদের মহা ভীড়, জ্ঞানিদের মিছিল, ত্যাগিদের আড্ডা, মহানদের মহা সমাবেশ। শিল্পি,অভিনেতা,আর নেতাদের জানজট! যেন  সব তারকারা এখানে এসে মিলেমিশে হয়ে গেছে একাকার, কি দুর্ভাগ্য আমার ! গুন শূন্য আমি উনাদের ভিড়ে থাকি। তবে ভুল বুজে বা গুজবে আমাকেও কেউ যদি আখ্যা দেয় দুর্দান্ত অভিনেতা। তখন কি দারুন পাওয়া হবে আমার! সকলের কাছে তাই অগ্রিম কৃতজ্ঞতা একবার ।
 
এ দেশে মানুষ নেতা কর্মীদের সংখ্যা অল্প আর হাতেগোনা । কিছু মানুষ নেতা বাদে বাকিরাতো মনে মনে মানুষের চেয়েও অধিক ! বাহিরে ফেরেস্তা, ভেতরে শয়তানির আখড়া,লালিত চামচাদের প্রচারে কিংবদন্তী ! তারা মহান আর অনন্য! তারা একাধারে জননেতা, অভিনেতা,এবং আরো অনেক কিছু । তারা টাকার খই ছিটিয়ে কর্মী নামের মুরগী আর পদবী কিংবা ক্ষমতার মুলা ঝুলিয়ে পালে একদল অদ্ভুত গাধা । এই অদ্ভুত গাধা ও মুরগিরা কিংবদন্তীর মানে বুঝেনা, ভাল মন্দ বিচারের সময় নাই তাদের, তারা বুজে নেতার তোষামোদি আর চামচামি করা । প্রয়োজনে তারা নেতার হুকুমে গাধা থেকে নেকড়ে হয়ে যায়, নেকড়ে হয়ে চুষে ফেলে বিরোধী কিংবা সতীর্থের রক্ত। এসব কর্মীরা তার অভিনয় প্রতিভাধারী নেতাকে ত্যাগি বলে ফেইসবুকে অকাতরে ট্যাগায় । কিংবদন্তী জননেতা হিসেবে জাহির করে জনতার সামনে । বুজদার জনতা হাসে, আর বলে এ ত্যাগিটা আবার কোন গ্রহের! নিশ্চই অন্য দল থেকে ভিড়েছে না হয় অবৈধ পথে আঙ্গুল ফুলিয়েছে, অথবা দলের ভেতরেই বেড়ে ওটা ব-কলম ভন্ড! বুজদার জনতা এদের সাধারন জ্ঞানের অধঃপতন দেখে লজ্জা পায়। জনতার মন চায় স্ব-ঘোষিক এ কিংবদন্তী আর তার গাধা,মুরগী ও নেকড়ে চাটুকারদের কান টেনে কষে একটা থাপ্পাড় দিয়ে প্রশ্ন করে, কিংবদন্তীর মানে বুজিস ! জননেতার ব্যাখা জানিস !
দশ ব্যাগ ত্রাণ, বিশ জন হাত পাতা মানুষ, ত্রিশ জন কর্মী আর ক্যামেরা নিয়ে ফেইসবুকের সেরা পোস্ট তৈরি করতে বের করে বত্রিশ দাত । দরিদ্রতা আর দূর্যোগে দুরগস্তদেের মলিন মুখই ওদের মহান সাজার পুঁজি, আর যদি কখনো মিলে যায় একটা লাশ তবেতো রাজনীতি তুঙ্গে ! করুন মুখের পুঁজিতে সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় ওরা নির্লজ্জ থাকলেও লজ্জায় মাথা আছড়ায় বোবা প্রকৃতি । যেন অসহায়দের করুন কান্না শুনার সময় নেই কারো। ফেইসবুক বা মিডিয়ার কল্যানে মহান সাজাটাই আসল , এ যেন যত বেশী ছবি তত বেশী মহান, কিংবদন্তীরা তাই মহান হওয়ার হওয়ার প্রতিযোগীতায় আছে । নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তারা হয়ে ওঠে আরো কয়েক গুন মহান । এদের মতোই সমান উজ্জল আরেকদল হলো নিরপেক্ষ রাজনৈতিক নামধারী তথাকথিত সমাজ সেবী। যদিও সময়ের প্রয়োজনে এরাই সবার আগে পক্ষ খোঁজে , নির্বাচন করতে চায় কোন শক্ত পক্ষের হয়ে । ওরা দলীয় টিকিটের দিকে হাত বাড়ায়, আশ্চর্যজন ভাবে পেয়েও যায় । আর বরাবরের মতো ভন্ডদের কনুইর জোরে প্রকৃত ত্যাগিরা থেকে যায় বঞ্চিত।
 
এবার আসি অভিনয়,অভিনেতা কিংবা প্রতিভার কথায়। আসলে নেতাদের ভেতরে অভিনয় প্রতিভা ট্রন্সফার হওয়ায় অভিনয়ের সজ্ঞা পল্টি খেয়েছে । এখন অভিনয় মানে ভাড়ামি,যৌনতা আর ভন্ডামির উৎসব । পয়সা ওয়ালার কাক কন্ঠকে এখন কোকিলা বলে প্রসংশার তেল মারে চাটুকারের দল ,নিচতলা ভাড়া দিয়ে উপর তলা বড় করে নায়িকা হয় আইডল । ভাড়ামি প্রতিভায় দেশ আজ ভাইরালে সয়লাভ, তাই ভাইরালের পেছনে হন্য সবাই, যে করেই হোক একবার ভাইরাল হলেই দেশময় ধন্য ধন্য পড়ে যাবে সেই আশায় ভাড়ামি, ইতরামি,ফাউলামি, পাগলামি, ছাগলামি যা আছে তা নিয়ে ইউটিউবে ভিড় । একটাই চিন্তা! একাটাবার শুধু একটাবার যদি ভাইরাল হওয়া যায় !
 
মজার ব্যাপার হলো সেই ভাইরাল তকমাও নেতারা ছিনিয়ে নিচ্ছে, যুক্তিহীন উক্তি দিয়ে জাতীয় নেতারা প্রতিনিয়ত ভাইরাল হচ্ছে, টকশোতেও জ্ঞান কপচাতে ভাইরাল নেতাই ফার্সট চয়েজ । আর লোকালের বেশীর ভাগ নেতাই স্ব-ঘোষিত জ্ঞানী, ফেইসবুকে বিদ্রোহী। পাড়ায় পাড়ায়, গ্রামে গ্রামে এখন স্ব-ঘোষিত কিংবদন্তী নেতা,মহা-জ্ঞানীদের দেখা মিলে। ভাল মানুষ হওয়ার স্বপ্ন ,সু-চিন্তার কিংবা সেবামূলক পেশা দিয়ে দেশের উপকার আর বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখাদের কেউ পাত্তা দেয়না, যেন এগুলোর দরকার নেই, ভন্ডামি আর দাদাগিরির পেছনে যেন ছুটছে দেশ। তাইতো সবাই এখন ভাইরালে বিভোর। আর নেতাগিরির চান্স পাইলেতো কথাই নেই, বহুগুনে বহু বিশেষনে সে পাবে সমাজের সেরা কদর । বাস্তবতা হচ্ছে এখন নাটক সিনেমার চেয়ে খবরেই মনযোগ সবার । ভাল কাজ আর অসাধারন প্রতিভা দিয়ে যারা ভাইরাল হয় তারাও কেন যেন হারিয়ে যায়? সিস্টেমটা যেন উল্টো গেছে কারন দর্শক এখন ভাড়ামি দেখতে নাটক দেখে আর নাটকে দেখতে লাগায় খবরের চ্যানেল । খবরে যখন এডিটিং ছাড়াই মিলছে খাটি জিনিস! তখন কি দরকার এতো সিনেমা দেখার?

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক