বকেয়া পরিশোধে সময় পাচ্ছে রবি-গ্রামীণফোন

নিউজ ডেস্ক:: আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং রবি’র কাছে বিটিআরসি’র সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার বিষয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভুলবোঝাবুঝির জন্য এই সমস্যা হয়েছে। কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে সমস্যা সমাধান হবে তা আমরা দেখছি। সমাধানের বাইরে আমরা অন্য কোন পদ্ধতিতে যাবো না। আমরা আশা করি, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সমাধান হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য আদালতে যাবো না, নিজেরা বসেই সিদ্ধান্ত নেবো। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করব। সমাধান অবশ্যই হবে। এতে তারাও জিতবে, আমরাও জিতব।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই মোবাইল অপারেটর যে মামলা করেছে তারা সেটি প্রত্যাহার করবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, বকেয়ার বিষয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেটি সমাধানে তারাও হারবে না, আমরাও হারব না। তারাও এ দেশে ব্যবসা করবে এবং আমাদের পাওনাও বুঝিয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে আমরাও তাদের সাহায্য করব।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২২ বছরের পথচলায় গ্রামীণফোনসহ অন্যান্য অপারেটরের কাছে এনবিআর ও বিটিআরসি’র অনেক পাওনা রয়েছে। তারা এটি আলোচনার ভিত্তিতে পরিশোধ করবে। তিনি বলেন, আমরা ব্যবসা করতে বাধা দিতে চাই না। অপারেটরদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা আশা করি এটিও নিষ্পত্তি করতে পারব।
গ্রামীলণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ যে, আমাদেরকে একত্রিত করে এটির সমাধান খোঁজা হচ্ছে। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি এখন আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে।

এর আগে, প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি’র টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না— সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিটিআরসি। তারও আগে, বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি আজিয়াটার (রবি) ব্যান্ডউইথ সক্ষমতাও কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দু’টিকে কোনো এনওসি (নতুন সেবা প্রদান) না দেয়ার সিদ্ধান্তও আসে। সর্বশেষ ধাপ হিসেবে গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল বিটিআরসি।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক