বিটিভির দাপুটে সময়ের কথা ও ভবিষ্যত ভাবনা

৩২

 

আলমগীর হোসাইন:: এই যে ইউটিউব আর এ্যপস প্রজন্ম তোমাদের বলছি, তোমরা যখন ইউটিউব বা কোন এ্যাপসে বুদ হয়ে থাক নতুন সিনেমা, নাটকে বা আপকামিং সিনেমার ট্রেইলারে, আমরা তখন একটু বিনোদনের জন্য শুক্রবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম বিটিভির সেই উপস্থাপক পুরুষ বা মহিলার জন্য, যিনি এসে বলবেন সু-প্রিয় দর্শক এখন দেখবেন বাংলা ছায়াছবি “…….” শ্রেষ্ঠাংশে…….। যদিও আশা করতাম একটা নতুন ছবি তবু দোখানো হতো ইতিপূর্বে অন্তত তিনবার প্রচারিত এবং কম করে হলেও সাত-আট বছর পূর্বে রিলিজ হওয়া ছবি ।
.
এই যে তোমরা ইউটিউবে বিজ্ঞাপন এলেই স্কিপ করে দিচ্ছো আমরা তখন ধৈর্য ধরে বসে থাকতাম বিজ্ঞাপনের মেঘ সরে কখন ইলিয়াস কাঞ্চনের ফাইটের পরের অংশটা আসবে । তখনকার সিনেমায় আবেগ ছিল। সবাই মিলে এক সাথে বসে সিনেমা দেখা যেতো । সিনেমায় সাবানার দুঃখে আবেগে আম্মার চোখে জলে টলমল, আমার চোখের পানি কেউ দেখে ফেলতে পারে ভেবে চোখ মুছার জন্য চোখে হাত দিতেই দেখি হঠাৎ টিভিতে বলে উঠছে “ও চুমকি বাঁধন বিস্কুট খাইয়া কও” মানে আবার বিজ্ঞাপন আরকি । বুজো ঠ্যালা । এখন তোমরাতো ক্লিকে ক্লিকে চ্যানেল বদলাউ । সিনেমার আইটেম সং, অথবা ভংচং, হাবিজাবিও দেখো ইচ্ছামতো । শিক্ষনীয় চ্যানেলও হয়তো সাবস্ক্রাইব করা আছে কয়টা ।
.
তোমরাতো এখন মোবাইল, ট্যাবে বা ল্যাপটপে চার্য দিয়ে দেখো, চার্জ গেলে যাক ব্যাকাপতো আছে । তাছাড়া এখনতো আর বিদ্যুৎ যায়না আগের মতো । কিন্তু আমাদের ছোটবেলায় ছিল বিদ্যুতের ভেলকিবাজি । আমার সবচেয়ে বেশী সমস্যা হয়েছিল মুসলমানীর পর। যখন অলস সময়ে বিটিভিতে বিনোদনই ছিল ভরসা । ঘটনাটা বলি, সেবার ছবির মাঝ পথে সংসদ অধিবেশন শুরু। কিছু সময় সংসদ, তারপর খবর তার পর ছবির বাকি অংশ। ছবির বাকি অংশ আসতেই বিদ্যুৎ চলে গেছে। তখন বিদ্যুৎ গেলে নকিং ক্রিকেট খেলা শুরু করতাম। আমি মুসলমানি জনিত অসুস্থতায় খেলতে পারছিলামনা তবু খেলা দেখার জন্য লুঙ্গির আগা ধরে ধরে উঠানের খেলার সার্কেল পর্যন্ত গিয়েছি, গিয়ে যেই দাঁড়িয়েছি অমনি কেউ একজন গলা উঁচিয়ে বলছে “কারেন্ট আইচ্ছে রে “সবাই দৌঁড় দিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে টিভি ঘরে, আমি দৌঁড়াতে পারছিলামনা কারন লুঙ্গির আগা ধরে, কত জোরে আর দৌঁড়া যায়রে ভাই।
..
কথা হচ্ছে ভারতে বিটিভি দেখা যাবে, আর বিশ্বের সব যায়গা থেকে বিটিভি দেখার জন্য তৈরি হচ্ছে এ্যপস। এ খবরে বিটিভি নিয়ে ট্রল শুরু হয়েছে । এটা অ-স্বাাভাবিক নয়। এ যুগ তো আর সে যুগ নয় যে, বিশ মিনিট বিজ্ঞাপন আর পাঁচ মিনিট বিনোদন দিয়ে যা ইচ্ছা তাই গেলাবেন। গোটা দেশ যে সময় একটি খবরে সরব থাকবে সে সময় যদি বিটিভি পড়ে থাকে বাতাবি লেবুর বাম্পার ফলনে , তবে বাতাবি লেবুই ফলবে দর্শক হবেনা ।
.
অথচ বিটিভি একটু চেষ্টা করলেই প্রচুর দর্শক টানতে পারে। কারন এই টিভি চ্যানেলটি মিশে আছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যে । এই টিভিও খুব সহজেই পেতে পারে দর্শক প্রিয়তা । শুধু দরকার কিছু মান সম্মত অনুষ্ঠানের । এই যেমন বিটিভির দর্শক না থাকলেও ইত্যাদির দর্শক কিন্তু দেশের প্রতিটা মানুষ । ইত্যাদির কারনেই মাঝে মাঝে বিটিভির কথা মনে হয়। মিস করি ফেরদৌস বাপ্পির কুইজ কুইজ প্রতিযোগিতার মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান গুলো। ঠিক এরকম ভাবে সরকারের অর্জন নিয়ে যদি বিটিভি একটি প্রোগ্রাম করে যেখানে কুইজ বা অন্য কোন প্রতিযোগিতা মুলক কিছুতে ফেইসবুক,এসএমএস, অনালাইনের মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা বা সবাই অংশ নিতে পারবে । বড় দাগের পুরস্কার থাকবে। এতে করে দেশে একটা উৎসাহ থাকবে আর সরকারে উন্নয়ন প্রচার ছোঁয়ে যাবে মানুষের হৃদয় । হতে পারে তরুনদের আইডিয়া নিয়ে কোন অনুষ্ঠান যেখানে তরুনরা দেশের উন্নয়নে নতুন আইডিয়া দেবে । বিটিভি এর প্রচার এবং বাছাইকৃত গ্রহনযোগ্য আইডিয়ার বাস্তবায়নে সরকারকে কাজে লাগাবে । দরিদ্র মানুষদের জীবন বদলানোর করনীয় নিয়ে থাকবে ব্যতিক্রমী আয়োজন, বেকারদের ভবিষ্যত ভাবনা আর সম্ভাবনা নিয়ে চকমপ্রদ কোন অনুষ্ঠান,থাকতে পারে গৃহিনীদের অংশগ্রহণ নিয়েও আয়োজন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে দর্শক বিটিভির প্রতি জোঁকে যাবে অনায়াসে। আবার আয়োজন থাকলেই হবেনা বিভিন্ন মাধ্যমে থাকতে হবে ব্যাপক প্রচার। ইউটিবে চ্যানেল,ফেইসবুক পেজে থাকবে স্মার্ট একটিভিটিস। আর হ্যা! আমার এই আইডিয়া গুলো ফাল্তুও মনে হতে পারে, এ গুলো গ্রহন না করা হোক অন্তত দেশের বড় বড় মেধাবী মানুষদের কাছ থেকে হলেও টিপস নিয়ে সাজানো হোক বিটিভির অনুষ্ঠান মালা । তবেই হয়তো দর্শক বিটিভির এ্যাপস ইনস্টল করতে পারে, কিছু সময় ক্লিকবাজি না করে বিটিভি থেকে বিনোদন নিতে পারে। নইলে বিটিভি ইতিহাস হয়েই থাকবে, আধুনি হতে পারবেনা। আর ইউটিউব, এ্যাপস প্রজন্ম তোমরা একটু ধৈর্য্য ধরো, ট্রল না করে দেখো বিটিভি স্মার্ট হতে পারে কি না। যদি না পারে তখন না হয় ট্রল করো , তখন না হয় বিটিভির এ্যাপসকে গুডবাই বলে বলো “এই এ্যাপস এ্যাপস নয় আরো এ্যাপস আছে”।

বিদ্রঃ আমি কিন্তু ইউটিউব/এ্যাপস প্রজন্মের বাইরে নই, আবার এক চ্যানেল প্রথা প্রজন্মেরও বাইরের নই। আমার এই লেখাটি বিটিভির দাপুটে সময়কার এক চ্যানেল প্রথা প্রজন্মের পরের প্রজন্মের জন্য।

 

শিক্ষার্থী: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক