যোগীকে সতর্ক করল ভারতের নির্বাচন কমিশন

৩৬

নিউজদেশবাংলা ডেক্স:: নির্বাচনী জনসভায় ভারতীয় সেনাকে ‘মোদিজি কি সেনা’ বলে মন্তব্য করায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য করার আগে তার সতর্ক থাকা উচিত বলেও আদিত্যনাথকে জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে গত সপ্তাহে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন যোগী । সেখানে তিনি বলেন, কংগ্রেস জঙ্গিদের বিরিয়ানি পরিবেশন করে, সেখানে ‘মোদিজির সেনা’ জঙ্গিদের দিকে বুলেট আর বোমা ছোড়ে। কংগ্রেস আর মোদিজির মধ্যে ফারাক এটাই।

যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্যের পরই ঝড় উঠেছিল দেশের রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ছিল, আদিত্যনাথের এই মন্তব্য আসলে ভারতীয় সেনার অপমান। যোগী ও বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, সেনা কারও ব্যক্তিগত হতে পারে না, সেনা আসলে সবার।বি

জেপি শিবিরের মধ্যেও সমালোচিত হয়েছিলেন যোগী। বিজেপি নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধান ভি কে সিং’ও আদিত্যনাথের সমালোচনা করে বলেছিলেন, সেনা কারও ব্যক্তিগত হতে পারে না।

প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও। বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন দেশের সাবেক নৌসেনা প্রধান এল রামদাস। তার অভিযোগ ছিল, ভারতীয় সেনা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তারা গোটা দেশকে সেবা করেন।

ভারতীয় সেনাকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করার জন্য নাম না করে বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এস পনাগ। তিনি বলেছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বেশ কিছু দিন ধরেই জাতীয়তাবোধ এবং ভারতীয় সেনাকে এক করে ফেলার একটা চেষ্টা চলছে। এর ফলে ভারতীয় সেনার রাজনীতিকরণের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের বুঝতে হবে জাতীয় সেনা একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বিষয়।

আদিত্যনাথের মন্তব্য নিয়ে সারা দেশে বিক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশনও। গাজিয়াবাদের জেলাশাসকের কাছ থেকে তার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ চেয়ে পাঠানো হয়। পাশাপাশি শুক্রবারই যোগী আদিত্যনাথের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের উচ্চপদে থাকা একজন ব্যক্তি এই ধরনের মন্তব্য কী করে করতে পারেন, তা নিয়েও যোগীকে ভর্ৎসনা করেছে কমিশন।

আদিত্যনাথের এই মন্তব্যের বহু আগেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল, যেহেতু ভারতীয় সেনা অরাজনৈতিক এবং নিরপেক্ষ, তাই নির্বাচনী জনসভায় ভারতীয় সেনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক