রংপুরে ৫ বছরে ৩৪ লাখ টন মাংস উৎপাদন

৫৯

নূর আলম, রংপুর :: রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ৫ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৪ লাখ মেট্রিকটনের বেশী মাংস উৎপাদন হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ লাখ মেট্রিকটন বেশী।
রংপুরের বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানাযায়, একই সময়ে আট জেলায় প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিকটন মাংস উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল।
সরকারের যুগোপযোগী কর্মসুচী গ্রহনের ফলে রংপুর বিভাগের নদী বিধৌত চরাঞ্চল সহ প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার মানুষ গরু, মহিষ এবং ছাগল পালনে ক্রমান্বয়ে উৎসাহিত উঠছে। যার ফলে নিজের ব্যাক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থেই কখনো পারিবারিক ভাবে কখনো সমষ্টিগত বাণিজ্যিক ভাবে এসবের ছোট বড় বিপুল সংখ্যক খামার গড়ে উঠেছে।
চাহিদা পূরন এবং প্রয়োজনের তাগিদে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ গরু, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া পালনে ক্রমান্বয়ে নিজস্ব উদ্যোগে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ২ কোটি গবাদি পশুর বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সাড়ে ৮ হাজার গাভীর খামারে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ গরু ও মহিষ, প্রায় ২ হাজার সাড়ে ৬ শ’ ছাগলের খামারে প্রায় ৪১ লাখ ছাগল এবং আড়াই হাজারের বেশী ভেড়া ও অন্যন্য গবাদি প্রাণীর খামারে প্রায় ৪৮ লাখ ভেড়া এবং অন্যান্য গবাদি প্রাণীর বিশাল মজুদ রয়েছে।
জানাযায়, গবাদি প্রাণীর ক্রমর্ব্ধমান সম্প্রসারনের লক্ষ্যে ব্যাক্তি উদ্যোগ ও খামার ব্যবস্থাপনার ব্যাপক হারে উৎসাািহত করার জন্য রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থানে ইতোমধ্যে ১৬৭ টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে এসবের উন্নত জাত সম্প্রসারন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এসব কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী উন্নত জাতের প্রজনন সম্প্রসারনে সেবা প্রদান করছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন স্থানে দেশী এবং উন্নত শংকর জাতের প্রায় ২১ লাখ গাভীর বিশাল মজুদ ও গড়ে উঠেছে। এর ফলশ্রুতিতে কেবল গত বছরই কোরবাণী এবং মাংস উৎপাদনের জন্য এই বিভাগে ১৬ লাখ গবাদি প্রাণীর এক বিশাল ভান্ডার তৈরী হয়েছিল। যা রংপুর বিভাগের কোরবাণী ঈদের চাহিদা পুরন করেও প্রায় ৪ লাখ গবাদি প্রাণী রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করা সম্ভব হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিকটনের বেশী। কুড়িগ্রাম জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিকটন। লালমনিরহাট জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিকটন। নীলফামারী জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটনের বেশী। দিনাজপুর জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার মেট্রিকটন। ঠাকুরগাঁও জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিকটন এবং পঞ্চগড় জেলায় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিকটন।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের উপ পরিচালক ডাক্তার শেখ আজিজুর রহমান জানান, গবাদি প্রাণীসম্পদের জাত সম্প্রসারনে রংপুর অঞ্চলের অনুকুল আবহাওয়ার পাশাপাশি ক্রমর্ব্ধমান চাহিদা পূরন এবং প্রয়োজনের তাগিদে এই অঞ্চলের বিভিন্ন পেশার মানুষ গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া পালনে উৎসাহিত হয়ে উঠছে।
পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে যুগোপযোগী নানা ধরনের কারিগরী সহায়তা এবং প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে। গবাদিপ্রাণী চাষে মান সম্পন্ন ঔষধের কিছু সমস্যা থাকলেও খাদ্য ঘাটতি অনেকটাই পুরন হয়ে আসছে। এছাড়া মানুষ নিজের প্রয়োজনের তাগিদে সবচেয়ে বড় উপকরন খড় এবং উন্নত জাতের ঘাষের ব্যাপক হারে চাষ করছে। ফলে রংপুর অঞ্চলে এখন মাংস উৎপদনের লক্ষ্যে গবাদি প্রাণীর চাষ বেশ অর্কষনীয় এবং লাভজনক হয়ে উঠেছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক