লাল-সবুজ বাঙালির অস্তিত্বে মিশে থাকা চেতনার নাম

২৯

নিউজদেশবাংলা ডেক্স:: লাল-সবুজ বাঙালির অস্তিত্বে মিশে থাকা চেতনার নাম। বাঙালি জাতির ভালোবাসা, হাসি-কান্না এবং আবেগের সবটুকু জুড়েই যেন রয়েছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবস, বাঙালি জাতির জীবনে এক অমূল্য দিন। স্বাধীনতা মানেই যেন এক অন্যরকম অনুভূতি, এক অভিন্ন আনন্দ।

স্বাধীনতার গৌরব আমরা ধারণ করেছি আমাদের অন্তরের অন্তস্থে। সেই গৌরব এবং ভালোবাসার কিছুটা যে আমাদের পোশাকেও ছড়িয়ে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক।

পোশাকেই একটি মানুষের যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব বোঝা যায়। আর উৎসবে হোক আর প্রতিদিন হোক পোশাকের ফ্যাশন থাকবেই। একজন বাঙালি হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করা দেশপ্রেমের চেতনার কিছুটা হলেও তুলে ধরা যায় পোশাকে, মননে তথা গোটা সংস্কৃতিতে।

লাল-সবুজের পোশাকে ছেয়ে যায় সারা দেশ। সাজসজ্জাতেও থাকে পতাকার লাল-সবুজ রঙ। এগুলো শুধুই নিয়ম রক্ষার জন্য নয়, স্বাধীনতার চেতানা বুকে ধারণ করে প্রকাশের মাধ্যম মাত্র।

এই দিনে অনেকেই বেড়াতে বের হন। আসুন জেনে নিই কেমন হবে স্বাধীনতার সাজ-পোশাক?

স্বাধীনতা দিবসের পোশাকগুলো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, দায়িত্ব ও মূল্যবোধ থেকেই করা হয়। এই পোশাক যেমন আমাদের স্বাধীনতার চেতনা, তেমনি নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে।
বড় ও ছোটদের জন্য স্বাধীনতার পোশাকের মধ্যে রয়েছে শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, টপস ও টি-শার্ট। আরামদায়ক কাপড়ে লাল-সবুজ রঙের প্রাধান্য দিয়ে এসব পোশাকের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আমেজ। যোগাযোগ : শাহবাগের আজিজ সুপার মর্কেট, ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার, মেট্রো শপিংমল ও মিরপুর অরজিনাল দশ নম্বরে।

নারায়ণগঞ্জের ফ্যাশন হাউস নকশা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিয়ে এসেছে লাল-সবুজের পোশাক। এ আয়োজনে থাকছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট ও ছোটদের পোশাক। পোশাকের ডিজাইনে উঠে এসেছে লাল-সবুজ রঙের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানচিত্র ও দেশীয় মোটিফ।

হস্ত ও কুটির শিল্প কারুপল্লী এনেছে স্বাধীনতা দিবসের পোশাকে। এসব পোশাকের মধ্যে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। লাল-সবুজ রঙের কাপড়ে এসব পোশাক তৈরি করা হয়েছে।

তারুণ্যের পিজিয়ন টি-শার্টে নিয়ে এসেছে চমক। ওয়েস্টার্ন থিম বেইজ করা টি-শার্টগুলোয় ব্যবহার করা হয়ছে কটন, লেকরা, কাব ও পিকে ফেব্রিক। গর্জিয়াস লুকের টি-শার্টের ডিজাইনে রয়েছে কালার ভেরিয়েশন। টি-শার্টগুলো ডিপ ও লাইট কালার দুই প্যাটার্নেই তৈরি। কালার ভেরিয়েশনে প্রাধান্য পেয়েছে ব্লু, নেভি ব্লু, রেড, মেরুন, গ্রিন, কমলা। রঙ ও ডিজাইনে বৈচিত্র্যভরা টি-শার্টগুলো মূলত রাউন্ড মেকিং, ভি-মেকিংয়ে তৈরি। ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যান এনেছে এ সময়ের আবহাওয়া উপযোগী শার্ট, পলো শার্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি। বিভিন্ন রঙের আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক।

ছেলেদের পোশাক

ছেলেরা সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পরতে পারেন। আকাশি রঙের জিন্স কিংবা সাদা পাজামা বেশ মানিয়ে যাবে। সবুজ পাঞ্জাবিতে লালের উপস্থিতি আপনার সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেবে অনেক বেশি। পাঞ্জাবি ছাড়াও টি-শার্ট পরতে পারেন। স্বাধীনতা দিবসের থিম অবলম্বনে করা এসব টি-শার্ট আপনার স্মার্টনেস বাড়িয়ে দেবে শতগুণ।

বাচ্চাদের পোশাক

বাচ্চা মেয়েদের লাল-সবুজ শাড়িতে অসাধারণ লাগে। ছেলে বাচ্চাদের সাজেও থাকতে পারে লাল সবুজ আবহ। এছাড়া পতাকার রঙে রাঙানো রিস্ট ব্যান্ড কিনে হাতে পরতে পারেন। মাথায় পেঁচাতে পারেন পতাকার ছাপ দেয়া লম্বা কাপড়ের ব্যান্ড। চোয়ালে বা হাতে এঁকে নিতে পারেন স্বাধীনতা দিবসের নানা ট্যাটু। সবকিছুই যেনো হয় স্বাধীনতা দিবসকে মাথায় রেখে।

নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করাটা যে কোনো উপলক্ষে জরুরি। তাই উগ্রতা নয়, স্নিগ্ধতাই হোক আপনার পরিচয়।

লাল সবুজের পতাকার দিকে তাকালেই এক ধরনের ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করে মনে। অনেক অব্যক্ত কথা ধারণ করে রেখেছে পতাকাটি। মনে করিয়ে দেয় আমরা মুক্ত স্বাধীন জাতি, যে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। অধিকার অর্জনে সচেষ্ট এক জাতি, যে জাতি স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে জানে।

দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবস আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। প্রেরণা জোগায় নিষ্ঠার পথে নির্ভীক যোদ্ধা হওয়ার। শুধু একটি দিবস হিসেবে নয়, এর বর্ণচ্ছটায় বদলে যায় জীবনের গতিপথ, সাহস জোগায় নতুন শপথ নেয়ার। আর এ কারণেই স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য এত বেশি। বর্তমান সময়েও এর প্রভাব প্রতিদিনের পথ চলার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রতি মুহূর্ত মায়াবী এক আবহে জড়িয়ে রাখে সেই প্রেরণা।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক