শেখ হাসিনা ভারত গেলেই জনগণ আতঙ্কে থাকে : রিজভী

নিউজ ডেস্ক::  রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী চুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এজন্য তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরে এই দাবি জানান রিজভী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমরা স্পস্টভাবে বলতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমুদ্রবন্দর, ফেনী নদীর পানি এবং জ্বালানি সংকটময় দেশের গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার যে চুক্তি করা হলো, তা সুস্পষ্টভাবে সংবিধান পরিপন্থী। এটা বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪৫ ‘ক’ অনুচ্ছেদের গুরুতর লঙ্ঘন। যা সংবিধানের ৭ ‘ক’ অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান লঙ্ঘনজনিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের শামিল।’

রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্র বিরোধী ও জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী চুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী তার সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি দেশের স্বার্থরক্ষায় তার কৃত শপথ ভঙ্গের প্রমাণ দিয়েছেন। নিজ দেশের স্বার্থের চাইতে বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সাংবিধানিক সকল অধিকার হারিয়েছেন। তাই এ মুহূর্তে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করছি।’

এ সময় ফেনী নদীর পানিসহ সকল ‘দেশবিরোধী’ চুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের এই সরকারের নাকি পর্বতের শৃঙ্গের মতো সম্পর্ক। কিন্তু বারবার আমরা হতাশ হই। আমাদের সীমান্তে হত্যার সমস্যার সমাধান হয় না, আমাদের তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, বর্ষায় ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিলে প্রবল বন্যার সৃষ্টি করা হয়, এখনো ভাসছে উত্তরাঞ্চল-এই সমস্যার সমাধান হয় না, বাণিজ্যের মধ্যে বিশাল ভারসাম্যহীনতা-সেটার সমাধান হয় না।’

ফেনী নদীর পানির দামে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতায় থাকা পাকাপোক্ত হলো বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত ১২ বছরে যা যা দিলেন তারপর আর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কিছু অবশিষ্ট থাকল? দেশ বিক্রি করে হলেও ক্ষমতা তার প্রয়োজন। সব দেশের প্রধানমন্ত্রীই বিদেশ সফরে কিছু না কিছু আনতে যান। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান সবকিছু উজাড় করে দিয়ে আসতে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্ব হয় সমতার ভিত্তিতে লেনদেনের ওপর। কিছুই না পেয়ে শুধু একতরফা দিয়ে যাওয়াকে কি বন্ধুত্ব বলে? এটাতো একমুখী প্রেম। নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চুক্তি করার চেয়ে কোনো চুক্তি না থাকাও যে ভালো, সেটাও আজ আমরা পুরোপুরি ভুলে বসে আছি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে ন্যায়সঙ্গত পাওনাটুকু বুঝে নেওয়ার কথা বলার মতো দেশপ্রেম ও সাহস যাদের নেই, তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে? শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলেই দেশের জনগণ আতঙ্কে থাকে।’

রিজভী বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট কথা, এই আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকলে কখনোই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হবে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয়। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা আর দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক