শোভন-রাব্বানীর মতই ভুল পথে হাটছে সনজিত!

নিজস্ব প্রতিনিধি:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এবং সিনেট সদস্য সনজিত চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় সমান অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ওঠা কোনো একটি অভিযোগকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে যেন অন্য আর একটি অভিযোগের কবলে। অভিযোগের বান যেন পিছু ছাড়ছেনা এই ছাত্রলীগ নেতার। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযোগের জন্য আবারো নিজ দল এবং দলের বাইরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনায় এসেছে এই ছাত্রনেতা। আবার ছাত্রলীগের অনেকেই অনেকেই বলছেন, ‘শোভন-রাব্বানীর মতই ভিন্ন পথে পা বাড়াচ্ছে সনজিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনজিত চন্দ্র দাসের এক অনুসারী বলেন, উনি (সনজিত) হাসতে হাসতে অনেক সময় অনেক সময় সংগঠন বিরোধী অনেক কথা বলে ফেলেন, যা আমাদের অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। আর এসব অভিযোগ থেকে ইতোমধ্যেই নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন খাবার পানির গ্লাস, কলম, অসুস্থ হরে ডাবের পানি, রোগের পথ্য ইত্যাদি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর পাশে দেখা যায় এই নেতাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার দ্বারা সংগঠিত বিতর্কিত কাজের জন্য, তার আগের কাজের থেকে বর্তমানের “বিতর্কিত কাজের” পাল্লা বেশি ভারী মনে করছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনজিতের অনুসারীদের অনেকেই বলছে, ‘তার এসব কাজ স্রেফ লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই না’।

গত সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে তার অনুসারীরা। হামলায় তিন সাংবাদিকসহ আহত ৩০ জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহন করে। এসময় ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায় তার অতিউৎসাহী অনুসারীরা। এর কিছু সময় পরে ছাত্রলীগ হামলার দায় স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেয়া ভিডিও কনফারেন্সে এ হামলার দায় স্বীকার করেন ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেলেও তবে তা লোক দেখানো ‘বুলি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। পরবর্তীতে ঢাবি ছাত্রলীগ তাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য একটি দায়সারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এই বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। সবাই একসাথে বসে অতিদ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

একই বছর আগস্টে প্রটোকল দেয়াকে কেন্দ্র করে সনজিত চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের দ্বারা লাঞ্চিত হন সংগঠনটির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ওই সময়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তবে এসব কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। বহাল তবিয়তেই থেকে গেছেন তিনি।

সনজিত চন্দ্র দাস সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মাথায় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিকে বেধড়ক মারধর করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও তার তদন্তের কোনো অগ্রগতি গেলো এক বছরেও হয়নি।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে মুকাভি নেতা মীর লোকমানকেও মারধর করেন তিনি।

গত ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বনাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে ধাক্কা দেন এবং পরে ফেসবুকে তাকে ‘ডলা’ দিয়ে মারার হুমকি দেন। নিজেকে ‘আজরাইল’ বলে দাবি করেন সনজিত।

এছাড়াও তিনি একটি ‘ধর্মীয় গোঁড়াপন্থি’ সংগঠন ‘ইসকন’ এর অন্যতম একজন নেতা বলে জানা গেছে। যে সংগঠনটি ‘বিধর্মী’ মতবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। আর এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এদিকে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। মেয়াদের শেষের দিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও এখনো দিতে পারেনি হল কমিটি। গত বছরের ২৯ এপ্রিল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সম্মেলন। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পূর্ণ হওয়ার পরে ৩১ জুলাই ২০১৮ ঢাবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক হন সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয় মেয়াদ শেষের মাত্র দু মাস আগে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক