স্বস্তির বৃষ্টি নিয়ে বর্ষার আগমন

২১

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি, শুষ্ক হৃদয়ও লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে ঊর্ধ্বমুখে নরনারী’;

কিংবা তার আবেগময় গান ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান; বা ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নব যৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা…’।

আজ শনিবার আষাঢ়ের প্রথম দিন। আর বর্ষা ঋতুর প্রথমদিনেই রাজধানী ঢাকায় নেমেছে বৃষ্টি। রাতভর গুমোট গরমের পর বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে তাই কিছুটা স্বস্তি মিলেছে নগরবাসীর।

ষড়ঋতুর এই দেশে আষাঢ়কে বলা হয় ঋতুর রানী। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বতন্ত্র। বর্ষা কাব্যময়, প্রেমময়। বর্ষার প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। শত ঘটনার ভিড়েও কোথায় যেন মেলে এক চিলতে বিশুদ্ধ সুখ।

বর্ষার এ সময়ে পুষ্প-বৃক্ষে, পত্র-পল্লবে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে সবকিছুর মধ্যে। কদম ফুলের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ গ্রাম কিংবা নগরবাসী সবাইকে মুগ্ধ করে এ সময়ে।

গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে পূর্ণতায়। নদীতে উপচে পড়া জল, আকাশে মেঘের ঘনঘটা এরই মাঝে হঠাৎ মেঘরাজের গর্জন। মেঘের ডাকে যেন বৃষ্টি কাঁদছে। যে কথাটি বলি বলি করেও বলা হয় না, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল নিয়ে যেন তারই আসার অপেক্ষা।

বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই কামিনি, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা, কদম নাম না জানা আরো কত ফুলের সুবাস। লেবু পাতার বনেও যেন অন্য আয়োজন। প্রকৃতি থেকে শুরু করে গান, কাব্য, কবিতায় বাঙালি জীবন প্রবাহের প্রতিটি পরতে রয়েছে বর্ষার প্রত্যক্ষ প্রভাব।

আষাঢ় বাংলা সনের তৃতীয় মাস। এটি বর্ষা মৌসুমে অন্তর্ভুক্ত দুই মাসের প্রথম মাস। আর নামটি এসেছে পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্রে সূর্যের অবস্থান থেকে।

এদিকে ভোর থেকে রাজধানীর আকাশ ছিল কালো মেঘে ঢাকা। সকাল সাড়ের ৭টার কিছু পরেই বৃষ্টি নামে। আষাঢ়ের প্রথম দিনের বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত না হলেও গত কয়েক দিন গরমে শীতল পরশ দিয়ে গেছে। তাপদাহে অতিষ্ঠ নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রধসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছুকিছু এলাকা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক