‘হাসিনাক ঠেকায় কায়’

৯৪

সীমান্ত সাথী, রংপুর: “মুই বাহে সকাল থাকি রাস্তার পাশোত বসি অপেক্ষা করচি। কখন শেখের বেটি হাসিনা আসপে ।  একবার নিজের চৌখে দেইখপার পারলে মোর মনটা ভরি গেইলহ্যায় (যেত)। হাসিনার সরকার গ্রামের মানুষের যে উন্নতি করি দেচে। অ্যাতে করি মনে হওচে এবার হাসিনাকে ঠেকায় কায়।’ রংপুরের তারাগঞ্জে পথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে এসে আঞ্চলিক ভাষায় এ কথা বলেন নুর ইসলাম (৫৫) ওরফে মান্দু। তাঁর বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার সিও রোডে। এলাকার মানুষ মান্দু খোঁড়া হিসেবে এক নামে তাঁকে চেনে। একটি দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়ে লাঠি ভর করে চলেন তিনি। জীবিকার তাগিদে সড়কের পাশে ছোট্ট একটি পান-সুপারির দোকান করেন তিনি। কারো কাছে হাত পাতেন না।

গতকাল রবিবার শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার জন্য বদরগঞ্জ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে তারাগঞ্জে আসেন নুর ইসলাম। দীর্ঘ সময় ধরে নুর ইসলাম মঞ্চের অদূরে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কখন আসবেন তাঁর প্রিয় নেত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে দুপুর সাড়ে ১২টায় তারাগঞ্জে আসার সময় নুর হোসেনের আশা পূরণ হয়। দূর থেকে তিনি দেখলেন প্রিয় নেত্রীকে।

তারাগঞ্জে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তারাগঞ্জ সরকারি ওয়াক্ফ এস্টেট সরকারি কলেজ মাঠে নৌকার আদলে তৈরি মঞ্চে ওঠেন তিনি। সাত মিনিটের বক্তব্যে তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। কানায় কানায় ভর্তি ছিল বিশাল কলেজ মাঠ। প্রধানমন্ত্রীর আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই সৈয়দপুর-তারাগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল হাজার হাজার মানুষ।

পথসভায় দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে শেখ হাসিনা বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘নৌকা ক্ষমতায় আসলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায়। রংপুরে এখন মঙ্গা নাই। আপনাদের সন্তানদের জন্য এখন বই কিনতে হয় না। বছরের শুরুতেই বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা তাদের মায়ের মোবাইলে পৌঁছে দিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বদরগঞ্জে যেতে পারলাম না। ডিউককে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’ এই পথসভায় তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সভা শেষে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের পীরগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়ি, ফতেপুর গ্রামের জয় সদনের উদ্দেশে রওনা দেন।

 

সূত্রঃকালের কন্ঠ

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক