সব পেলে নষ্ট জীবন!

৫৫

আলমগীর হোসাইনঃ ছোট বেলায় পড়েছি কান নিয়েছে চিলে, ছোটবেলার সেই ছোট কবিতার সমাধান কবিতার ভেতরে পেয়ে গেলেও বড় বেলায় এসে দেখি মানুষের কান গুজবের চিলে কত ভাবে নিয়ে যায়!  অন্তত একটা লাশ সাময়িক ত্রাশ অথবা মর্মান্তিক মৃত্যুর বিনিময়ে হুশ হলেও, পাজি গুজবের চিল আবার এসে ছুঁ মেরে আমাদের বেহুঁশ করে দেয়, আমরা আবার কান উদ্ধারে  ছুটে চলি, এভাবেই কাটা কানটা আর স্থায়ী পাওয়ার  হচ্ছেনা এখনো । সাংঘাতিক ! সম্প্রতি গ্যাস রপ্তানি চুক্তির খবরে স্বাভাবিক ভাবেই সবাই বিস্মিত হয়েছেন , সাথে বিস্ময়ের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বিবিসি! কারন  বিবিসির  খবর বলে কথা !  খবর পড়েইতো সবাই ঘোরের ভেতরে ছিলেন, কান এবার সত্যি সত্যিই কাটা গেল?   কি ভাবে গ্যাস চুক্তি হলো ! প্রশ্নটা অন্য সবার মতো আমার মনেও ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপর বিশ্বাসটাও ছিল তার চেয়ে বেশী দৃড়, কারন তিনি সেই পিতার কন্যা যার হাত ধরে এসেছে এ দেশ, তিনি নিশ্চই এমন কিছু করবেননা যেটা এ দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী, যার কারনে দেশের ক্ষতি হয়ে যায় । বিষয় গুলো নিয়ে যখন মনের ভেতর একগাদা প্রশ্ন জট পাকিয়ে বসেছে,বিষয়টা পরিস্কার  হওয়ার জন্য নেট ঘাটাঘাটি করা শুরু করেছি, এর মাঝে সেই বিবিসি নিউজ-ই আবার দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়ে দিল “প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, বাংলাদেশ থেকে এলপিজি যাবে ভারতে “তার মানে ওদের আগের নিউজটা গুজব ছিল!  কান কাটা যায়নি তবে! এ খবর দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে জানলাম আমরা বিদেশ থেকে যে এলপিজি আমদানি  করি, সেই গ্যাস ভারতে রপ্তানি করবো এতে আমাদেরই লাভ, কারন আমাদের ব্যাবসার বাজার বাড়বে ।

কিন্তু সরকার বিরোধীরা  এটাতে  মিথ্যাচার  ডুকিয়ে বানিয়ে দিল নতুন ইস্যু, আর জনগনকে ভুল বুজিয়ে দিল উত্তপ্ত করে ।কারন জনগনের আবেগকে পুঁজি করে একটা ইস্যু দাঁড় করিয়ে সরকার পতনের সমস্থ প্রচেষ্টাই হয়ে উঠে ওদের দেশ্রপ্রেমের নমুনা । জনতার মনোভাবকে ওরা বানিয়ে ফেলে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অস্র । বৈদেশিক  চুক্তি, কোঠা সংস্কার আন্দোলনের মতো ইস্যু অথবা আবরারের মৃত্যুর মতো মর্মস্পর্শী সব ঘটনাতেও ওরা রাজনীতির দু-হাত ঢুকিয়ে সরকার উৎখাদের ধান্দা করে ।নতুন গুজব ছড়িয়ে দিয়ে বের করে শয়তানী দাঁত।  কতোটা নির্লজ্জ ওরা ভাবা যায়!!!

আবার এক পক্ষ আছেন মহা পন্ডিত,তারা মাথা ব্যাথায় মাথা কাটাকেই বলে সমাধান, একটা কিছু ঘটলেই মূলে না গিয়ে সব কিছু সমূলে বন্ধ করার ফর্মুলা দেয়, তারা নাকি সারা দেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে চায়।  আরে, যে ছাত্র রাজনীতির পিঠে  ভর করে যে দেশে বার বার অর্জিত হয়েছে অধিকার, সে দেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে ওরা কারা যারা চায় নতুন শৈরাচার ?

ঘুরে ফিরে যখন ছাত্র রাজনীতির কথাই চলে এসেছে তখন মনের ভেতরের কয়েকটা কথা ঝেড়ে দেই। বলি উদার নীতির ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্র লীগে ওরা কারা যারা মত প্রকাশে বাধা দেয়?  আবরারদের মেরে দিয়ে ওরা কোন রাজনীতির শিক্ষা ছড়ায় ?  ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হত্যার এ আদর্শ ওরা কোথায় পায় ? বলি সময় এসেছে অনুপ্রবেশকারীদের আস্তানা গুড়িয়ে দেবার, রাজনীতির নামে সন্ত্রাসীদের তান্ডব বন্ধ করার, যেভাবে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্যাসিনো সম্রাজ্য গুলো।  মনেপ্রাণে চাই  ছাত্র রাজনীতির নামে রগ কাটা শিবিরের তান্ডব, ছাত্র দলের গুন্ডামী, ছাত্র লীগের ভেতরে খুনিদের অনুপ্রবেশ চিরতরে বিলিন হয়ে যাক। প্রকৃত ছাত্র রাজনীতি বেঁচে থাকুক আপন মহিমায় । আর সেই জ্ঞানিদের বলি আপনাদের কান নয় সম্ভবত মাথাটাই নাই ওটা আগে খুঁজোন, আর কান কাটাদের কান টা না পাওয়াই থাক! কারন সব পেলে নষ্ট জীবন।।

লেখক::
শিক্ষার্থী:সিলেট এমসি কলেজ (মাস্টার্স)

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ফেইসবুক